রবিবার, ৩ মার্চ, ২০১৯

হাতের ফোনকে বানান স্ক্যানার

উপরের ভিডিওতে দেখুন কিভাবে হাতের ফোনকে স্ক্যানার হিসেবে ব্যাবহার করতে পারবেন। 

সোমবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯

ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর রাজবাড়ির ইতিহাস

মুঘলরা ভারতীয় উপমহাদেশ দখল করে শাসন শুরু করার পর জমিদারি প্রথা চালু হয়। ভূমি রাজস্ব আদায়ের জন্য উপমহাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তারা জমিদার নিয়োগ করেন।

১৭৯৩ সালে বৃটিশ শাসন আমলে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত আইনের ফলে জমিদারদের জমিদারি সুদৃঢ় হয়। উপমহাদেশের প্রতিটি অঞ্চলে একজন করে জমিদারকে সেই অঞ্চলের জমির মালিকানা প্রদান করা হয়। জমিদাররা সেই অঞ্চলের অধীনস্ত প্রজাদের কাছে জমির খাজনা আদায় করতেন এবং সেই খাজনা জমিদারদের মাধ্যমে পৌঁছাত বৃটিশ শাসকদের কাছে।

হরিপুরে জমিদারির ইতিহাস
আনুমানিক ১৪০০ খ্রিস্টাব্দে ঘনশ্যাম কুন্ডু নামক একজন ব্যবসায়ী এন্ডি কাপড়ের ব্যবসা করতে হরিপুরে আসেন সেই সময় মেহেরুন্নেসা নামে এক বিধবা মুসলিম মহিলা অঞ্চলের জমিদার ছিলেনতাঁর বাড়ি হরিপুরের মেদিনীসাগর গ্রামে। জমিদারির খাজনা দিতে হতো তাজপুর পরগনার ফৌজদারের নিকট। খাজনা অনাদায়ের পড়ার কারণে মেহেরুন্নেসার জমিদারির কিছু অংশ নিলাম হয়ে গেলে ঘনশ্যাম কুন্ডু কিনে নেন

নির্মাণের ইতিহাস
ঘনশ্যামের পরবর্তী বংশধরদের একজন রাঘবেন্দ্র রায় ঊনবিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগে বৃটিশ আমলে হরিপুর রাজবাড়ির কাজ শুরু করেন কিন্তু তাঁর সময়ে রাজবাড়ির সমস্ত কাজ শেষ হয়নি রাঘবেন্দ্র রায়ের পুত্র জগেন্দ্র নারায়ণ রায় ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষদিকে রাজবাড়ির নির্মাণ কাজ শেষ করেন এসময় তিনি বৃটিশ সরকার কর্তৃক রাজর্ষি উপাধিতে ভূষিত হন
১৯৪৭ সালে ভারত উপমহাদেশ ভারত ও পাকিস্থান দুটি দেশে বিভক্ত হয়ে গেলে পাকিস্থান অঞ্চলের হিন্দু জমিদাররা নিজ বাড়ি ছেড়ে ভারতে চলে যায়। সেই প্রেক্ষিতে হরিপুর রাজবাড়ির জমিদার জগেন্দ্র নারায়ণ রায় পরিবারসহ ভারতের রায়গঞ্জে পালিয়ে যায়।

৩ একর ২৭ শতক জমির উপর এই জমিদার বাড়িটি। জমিদারি পরিচালনার জন্য কাচারী, ধর্মীয় উৎসবের জন্য বিভিন্ন উপাসনলয়, বিনোদনের জন্য নাচমহল, নাগমহল, অন্দরমহল ও অন্ধকূপ ইত্যাদি স্থাপন করেছিলেন।জগেন্দ্র নারায়ণ রায়ের সমাপ্তকৃত রাজবাড়ির দ্বিতল ভবনে লতাপাতার বিভিন্ন নকশা এবং পূর্ব দেয়ালের উপরে রাজর্ষি জগেন্দ্র নারায়ণের চৌদ্দটি আবক্ষ মূর্তি আছে তাছাড়া ভবনটির পূর্বপাশে একটি শিব মন্দির এবং মন্দিরের সামনে নাট মন্দির রয়েছে রাজবাড়িতে  একটি বিশাল পাঠাগার ছিলো যেটি কালের গর্ভে হারিয়ে গেছে রাজবাড়িটির যে সিংহদরজা ছিল তাও নিশ্চিহ্ন হয়েছে

১৯০০ সালের দিকে ঘনশ্যামের বংশধররা বিভক্ত হলে হরিপুর রাজবাড়িও দুটি আলাদা অংশে বিভক্ত হয়ে যায় রাঘবেন্দ্র-জগেন্দ্র নারায়ণ রায় যে বাড়িটি তৈরি করেন তা বড় তরফের রাজবাড়ি নামে পরিচিত এই রাজবাড়ির পশ্চিমদিকে নগেন্দ্র বিহারী রায় চৌধুরি গিরিজা বল্লভ রায় চৌধুরি ১৯০৩ সালে আরেকটি রাজবাড়ি নির্মাণ করেন যার নাম ছোট তরফের রাজবাড়ি

জরাজীর্ন অবস্থায় পড়ে আছে এখন এই হরিপুর রাজবাড়িটি। সরকার সংস্কারের উদ্যোগ নিলে এই রাজবাড়িটি হতে পারে পর্যটনের একটি অন্যতম স্থান। হরিপুরবাসীর প্রত্যাশা অতিসত্যর এটিকে সংস্কার করে গড়ে তোলা হবে একটি পর্যটন স্থান হিসেবে।

শনিবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯

ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের প্ল্যাটফর্মস বা চ্যানেলগুলো কি কি?

ট্রেডিশনাল মার্কেটিংয়ে অনেক সময় দেখি কোম্পানিগুলো কিছু স্পট বেছে নেয় তারপর সেই স্পটগুলিতে মার্কেটিং রিপ্রেজেন্টেটিভ বা বিপনন কর্মকর্তার মাধ্যমে মার্কেটিং করে থাকে।
ডিজিটাল মার্কেটিং যেহেতু অনলাইন নির্ভর সে ক্ষেত্রে আপনাকে অবশ্যই অনলাইনভিত্তিক বা ইন্টারনেটভিত্তিক কিছু প্ল্যাটফর্ম বা চ্যানেল বেছে নিতে হবে। বিশেষত যারা আউটসোর্স করেন বা কন্টেন্ট মার্কেটিং করেন তাদের তো ইন্টারনেটভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম ছাড়া আর কোন জায়গা নেই। তো চলুন দেখে আসা যাক প্ল্যাটফর্মগুলো কি কি!

ওয়েবসাইট বা ব্লগ   হচ্ছে আপনার বা আপনার কোম্পানির একটা ইউনিক আইডেন্টিটি। আজকাল আপনি একটি কোম্পানি করবেন অথবা আপনার পণ্য বা সেবা বিপনন করবেন কিন্তু ওয়েবসাইট না থাকলে কি হয়! অথবা আপনি কন্টেন্ট মার্কেটিং করে গুগল এডসেন্স থেকে টাকা উপার্জন করতে চাইছেন তাহলে তো অবশ্যই আপনার একটি ওয়েবসাইট বা ব্লগ থাকা জরুরি! বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর এই যুগে ওয়েবসাইট বা ব্লগ হচ্ছে একটি বিশ্বস্থতার প্রতীক। আপনি আপনার ওয়েবসাইটে আপনার পণ্য বা সেবা সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরবেন এতে করে কাস্টমাররা সহজেই আপনার পণ্য বা সেবা সম্পর্কে জানতে পারবে। আর যদি কন্টেন্ট মার্কেটিং করেন তাহলে ভিউয়ারের চাহিদামত তথ্য উপস্থাপন করবেন। তবে অবশ্যই মনে রাখবেন গুগল বা সার্চইঞ্জিনে সার্চে প্রথমের দিকে আসতে চাইলে অবশ্যই আপনাকে আপনার ওয়েবসাইট বা ব্লগের সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন বা ইংরেজীতে সংক্ষেপে যাকে বলে SEO এর কাজ করাতে হবে।

ফেসবুক হচ্ছে ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের অন্যতম এবং কার্যকরী একটি প্ল্যাটফর্ম বা চ্যানেল। বাংলাদেশে বর্তমান ফেসবুক ব্যাবহারকারীর সংখ্যা ৩ কোটির উপরে। ধারণা করা হচ্ছে টিভি বা অন্য কোন মিডিয়ায় বিজ্ঞাপন দেওয়ার থেকে ফেসবুকে ডিজিটাল মার্কেটিং করাটা এখন অনেক কার্যকরী। বাংলাদেশে তো এখন অনেক মানুষ আছে যারা টিভি দেখার থেকে খবর বা যে কোন বিষয়ে জানতে ফেসবুকে ঢুকেন বা ফেসবুক ব্রাউজ করেন। অনেকে এখন পণ্য বা সেবা বিপনন করতে অথবা কন্টেন্ট মার্কেটিং করতে ফেসবুককেই একমাত্র মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছেন।

ইউটিউব হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্ট বা ভিডিও স্ট্রীমিং ওয়েবসাইট বা প্ল্যাটফর্ম। গুগলের পরেই মানুষ এখন কোন কিছু জানতে বা দেখতে ইউটিউবে সার্চ করে। আপনি আপনার পণ্য বা সেবা সম্পর্কে বিভিন্ন ধরণের ভিডিও বানিয়ে ইউটিউবে আপলোড করতে পারেন। এতে করে সহজেই মানুষ আপনার পণ্য বা সেবা সম্পর্কে ধারণা পাবে। যারা ইউটিউব থেকে টাকা উপার্জন করতে চান তারা বিভিন্ন ধরণের ভিডিও কন্টেন্ট বানিয়ে ইউটিউবে আপলোড করতে পারেন।

লিঙ্কডইন হচ্ছে মূলত প্রোফেশনালদের জন্য একটি সোস্যাল মিডিয়া। অনেকে আছেন যারা কর্পোরেটদের টার্গেট করে পণ্য বা সেবা বিপনন করেন তারা লিঙ্কডইনকে ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বেছে নিতে পারেন। অথবা যারা কর্পোরেটদের টার্গেট করে কন্টেন্ট মার্কেটিং করে থাকেন তারাও লিঙ্কডইনকে মাধ্যম হিসেবে নিতে পারেন।

ইনস্টাগ্রাম হচ্ছে ফেসবুকেরই মালিকানাধীণ ইমেজ বা ছবি শেয়ারিং সোস্যাল মিডিয়া। অনেকেই আছেন যারা বিভিন্ন পণ্য বা সেবা নিয়ে ফটোগ্রাফি করে থাকেন অথবা ইমেজ কন্টেন্ট নিয়ে মার্কেটিং করেন (যেমন গ্রাফিক্স, মূলত ফটোশপ) তাদের জন্য  ইনস্টাগ্রাম হচ্ছে ডিজিটাল মার্কেটিং এর একটা পার্ফেক্ট মাধ্যম।

টুইটার এরও কিছু সংখ্যক ব্যাবহারকারী বাংলাদেশে আছে। টুইটারেও নিয়মিত পোস্ট বা মার্কেটিং করলে একটা সময় ভাল ফলোয়ার সমৃদ্ধ একটা প্রোফাইল হলে সেটিও হতে পারে ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের একটা অন্যতম প্ল্যাটফর্ম। মূলত যারা গ্লোবালি বিজনেস করেন অথবা কন্টেন্ট মার্কেটিং করেন তাদের জন্য ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের ভাল একটা প্ল্যাটফর্ম টুইটার

এছাড়াও Reddit, Tumblr এর মত প্ল্যাটফর্মগুলো ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের জন্য খুবই কার্যকরী। 

মঙ্গলবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯

ডিজিটাল মার্কেটিং কি এবং কেন?

প্রযুক্তির অগ্রযাত্রার সাথে সাথে পরিবর্তন হচ্ছে মানুষের জীবনযাত্রা। আর এর সাথে পরিবর্তন হচ্ছে আমাদের জীবনের প্রাত্যহিক সব কাজকর্মের রীতি-নীতি। প্রাচীনকাল থেকেই মানুষের জীবনধারা ও জীবনযাপন নির্ভর করে আসছিল মূলত কৃষির উপরে। যুগের পরিবর্তনের সাথে সাথে সেটা হয়ে যায় ব্যাবসাকেন্দ্রিক। আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সাথে প্রতিটি ক্ষণে এখন কোন না কোন ভাবে আমরা ব্যাবসাকেন্দ্রিক কোন কাজের সাথে জড়িত হচ্ছি। সেভ করার ব্লেড থেকে শুরু করে জীবন ধারণের অত্যাধুনিক সরঞ্জামাদি হয় কেউ কিনছি অথবা কেউ বিক্রি করছি। 

আমরা যখন আমাদের ব্যাবসার পণ্য বা কোন সেবার জন্য ক্রেতা খুজি তখনেই আমাদের সামনে চলে আসে বিপনন বা মার্কেটিংয়ের বিষয়টি। বিপননের চিরাচরিত কৌশলগুলো  আমরা মোটামুটি সবাই জানি। পণ্য বা সেবার বিক্রির জন্য বা প্রসারের জন্য আমরা মার্কেটিং রিপ্রেজেন্টেটিভ নিয়োগ করে থাকি অথবা বিভিন্ন টিভি, ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া বা বিলবোর্ডে বিজ্ঞাপন দিয়ে থাকি। 

কিন্তু ডিজিটাল এই যুগে এই কৌশলটিও এখন ডিজিটাল হয়ে গেছে। প্রযুক্তির এই যুগে মার্কেটিং বা বিপননের মাধ্যম হয়ে উঠেছে এখন অনলাইন বা ইন্টারনেট নির্ভর। আর এটাকেই আমরা বলছি ডিজিটাল মার্কেটিং। শুধু পণ্য বা সেবার বিপননের জন্য নয় এই ইন্টারনেটের যুগে যারা এখন আউটসোর্সিং করতে চান, পারসোনাল ব্র্যান্ডিং করতে চান বা নিজের ওয়েবসাইটে অথবা ব্লগে ট্রাফিক বাড়িয়ে বা ভিউয়ার বাড়িয়ে গুগল এডসেন্স বা এফিলিয়েটের মাধ্যমে টাকা উপার্জন করতে চান তাদের জন্যও ডিজিটাল মার্কেটিং জানাটা জরুরি। 

ডিজিটাল মার্কেটিং আসলে কি? যদি এই প্রশ্নে যাই তাহলে এর উত্তরটা একেবারে সোজাসাপটা হচ্ছে- অনলাইন বা  ইন্টারনেটভিত্তিক যে মাধ্যমগুলো আছে মূলত ওয়েবসাইট বা ব্লগ এবং বিভিন্ন সোসিয়াল মিডিয়া যেমন ফেসবুক, টুইটার, লিঙ্কডইন, ইউটিউবের মত মাধ্যমগুলোকে ব্যাবহার করে বিপনন বা মার্কেটিং। এই কৌশলে আপনি আপনার বিভিন্ন পণ্য বা সেবা এবং কন্টেন্টও মার্কেটিং করতে পারেন। ( ওয়েবসাইট বা ব্লগের বিভিন্ন লেখা,ছবি, ভিডিওকে মূলত কন্টেন্ট বলা হয়ে থাকে)। শুধু টাকার বিনিময়ে বিজ্ঞাপন না দিয়ে আপনি অর্গানিক বা ন্যাচারালি আপনি মার্কেটিং করতে পারেন। 

ডিজিটাল এই যুগে ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের প্রয়োজনীয়তাটা খুব যে বুঝিয়ে বলার আর দরকার আছে বলে মনে হয়না। বাংলাদেশে বর্তমান ১৭ কোটি মানুষের মধ্যে প্রায় ৬ কোটি মানুষ ইন্টারনেট ব্যাবহার করছেন। এবং এই ৬ কোটি মানুষ কোন না কোনভাবে আপনার কাস্টমার অথবা আপনার ওয়েবসাইট বা ব্লগের ভিউয়ার। ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে আপনি আপনার অফিসে বা ঘরে বসেই  এই ৬ কোটি মানুষের কাছে আপনার পণ্য বা সেবার তথ্য পৌছাতে পারছেন কিংবা আপনার কন্টেন্ট পৌঁছাতে পারছেন। আর জন্য আপনাকে আলাদা কোন রিপ্রেজেন্টেটিভ নিয়োগ দেওয়ার প্রয়োজন পরছেনা। 

শনিবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০১৫

বাংলার ইতিহাসঃ রাজা গণেশ

রাজা গণেশ
বর্তমান ঠাকুরগাঁও জেলার হরিপুর উপজেলার ভাতুরিয়ায় ছিল রাজা গণেশের গড় বা তার শাসন প্রাসাদ । মুসলিম ঐতিহাসিকদের রচনায় তিনি ‘কন্স’ হিসেবে উপস্থাপিত। মধ্যযুগের ইন্দো-পারসিয়ান ইতিহাসবিদরা তাকে একজন কাফির দখলদার বলে অবিহিত করেছেন। আধুনিক কিছু পন্ডিত তাকে দানুজামারদানদেব বলে উল্লেখ করলেও এই পরিচয়টি সর্বত্র স্বীকৃত নয়। পনের শতকের প্রারম্ভে ইলিয়াসশাহী বংশের দুর্বল সুলতানের নিকট থেকে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে বাংলার রাজা হন। তার প্রতিষ্ঠিত রাজবংশ ১৪১৫-১৪৩৫ সময়কালে বাংলা শাসন করে। 

তাঁর জন্ম ও বংশ পরিচয় সম্পর্কে সঠিক কিছু জানা যায় না। গিয়াসউদ্দীন আজম শাহের রাজত্বকালের শেষের দিকে ফিরুজাবাদের ( পান্ডুয়া) ইলিয়াসশাহী রাজদরবারে যেসকল অমাত্য প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন, গণেশ তাঁদের অন্যতম। তিনি সাইফুদ্দীন হামজাহ শাহ, শিহাবউদ্দীন বায়েজীদ শাহ ও আলাউদ্দীন ফিরুজ শাহের রাজত্বকালে বাংলার রাজনীতিতে ষড়যন্ত্রমূলক ভূমিকা পালন করেন এবং কম করে হলেও চার বছর (১৪১০-১৪১৪) রাজ্যের প্রকৃত ক্ষমতা তাঁর হাতে কেন্দ্রীভূত ছিল। তিনি রাজ্যের শাসন কর্তৃত্ব কুক্ষিগত করেন এবং বিশৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক গোলযোগের সুযোগে আলাউদ্দীন ফিরুজ শাহকে সিংহাসনচ্যুত (সম্ভবত হত্যা) করে ১৪১৪ খ্রিস্টাব্দে বাংলার সিংহাসন দখল করেন।

রাজা গণেশ বাংলায় মুসলিম শাসন উৎখাতের জন্য মুসলমানদের নির্যাতন ও উচ্ছেদ করার নীতি গ্রহণ করেন। নির্যাতিত মুসলমানগণ শেখ নূর কুতুব আলমের শরণাপন্ন হয়। তিনি জৌনপুরের সুলতান ইবরাহিম শাহ শর্কীকে মুসলমানদের উদ্ধারে এগিয়ে আসার অনুরোধ জানান। সুলতান ইবরাহিম শাহ শর্কী বাংলায় অভিযান করে সরাই ফিরুজপুরে শিবির স্থাপন করেন। রাজা গণেশ নূর কুতুব আলমের কাছে আত্মসমর্পণ করলে তিনি তাঁকে ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হওয়ার দাবি জানান। গণেশ নিজের স্থলে তাঁর পুত্র যদুকে ধর্মান্তরিত করার প্রস্তাব দেন। যদু ইসলাম গ্রহণ করেন এবং তাঁকে সিংহাসনে অধিষ্ঠিত করা হয়। তিনি তাঁর নতুন নাম জালালুদ্দীন মুহম্মদ শাহ নামে মুদ্রা প্রচলন করেন। কিন্তু জৌনপুর সেনাবাহিনীর প্রস্থানের পর গণেশ তাঁর পুত্রকে সিংহাসনচ্যুত ও বন্দি করেন। তিনি দনুজমর্দনদেব উপাধি ধারণ করে নিজ নামে মুদ্রা জারি করে রাজকীয় ক্ষমতার প্রয়োগ শুরু করেন। তিনি পুনরায় মুসলিম নির্যাতন শুরু করেন, শেখ আনোয়ারকে হত্যা করেন এবং শেখ জাহিদকে সোনারগাঁওয়ে নির্বাসন দেন। কিন্তু শীঘ্রই ১৪১৮ খ্রিস্টাব্দে গণেশ তাঁর পুত্র জালালুদ্দীন কর্তৃক সিংহাসনচ্যুত এবং সম্ভবত নিহত হন । ১৪৩৩ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত জালালুদ্দীন বাংলার রাজা ছিলেন।

রাজা গণেশ তাঁর স্বল্পকালীন শাসনে প্রায় সমগ্র বাংলার ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেন। ব্যক্তিত্বের অধিকারী রাজা গণেশ ছিলেন একজন চতুর কূটনীতিক। তিনি দেবী চন্ডীর ভক্ত ছিলেন।

ঢাকা, ২৪-০১-২০১৫ ইং 

সোমবার, ১ ডিসেম্বর, ২০১৪

পরিবেশ ও আমাদের দায়িত্ববোধ

দূষণ
সমাজ ও রাষ্ট্রের রন্ধ্রে রন্ধ্রে লোভ ও অসততার পাশাপাশি দায়িত্ববোধের অভাব মহামারীর মতো ছড়িয়ে পড়েছে। এর আরেকটি নগ্ন নজির জলবায়ু প্রকল্পের লুণ্ঠন। বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে জলবায়ু পরিবর্তনে যে কয়টি রাষ্ট্রের মানুষ সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্ত হবে, সেগুলোর একটি হলো বাংলাদেশ। এমন সতর্কবাণী সাম্প্রতিককালে স্বাভাবিকভাবেই এ দেশে উদ্বেগ ও শঙ্কা সৃষ্টি করেছে। তাই সম্ভাব্য বিপদ মোকাবেলার জন্য সরকার, এনজিও, পরিবেশবিদদের তোড়জোড়ের অন্ত নেই। সম্ভাব্য জলবায়ু বিপর্যয়ের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। যদিও এই বরাদ্দগুলো কষ্ট করে বাংলাদেশ সরকারের ফান্ড থেকে দেওয়া হচ্ছে না দেওয়া হচ্ছে বিশ্বব্যাংক, এডিবি এবং উন্নত দেশগুলোর সহায়তায়। দেখা যাচ্ছে, সে খাতেও বেপরোয়া দুর্নীতি ও অনিয়ম চলছে। এমনিতেই প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষায় গৃহীত বিভিন্ন প্রকল্প ও কার্যক্রমে দুর্নীতির অভিযোগ উঠে থাকে। চিন্তাটা দূর্নীতি নিয়েই শুধু নয়। চিন্তা  হচ্ছে আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে নিয়ে। এমনিতেই আমাদের পরিবেশটা দিন দিন অসাস্থ্যকর হয়ে যাচ্ছে। বর্জ্য ব্যাবস্থাপনাতেও নেই কোন কার্যকরী উদ্যোগ, এতে করে আবহাওয়ার বৈরিতা তো দেখা যাচ্ছেই তার সাথে দেখা যাচ্ছে আশপাশের পরিবেশ নোংরা হয়ে যাওয়ার কারণে রোগের প্রাদুর্ভাব বাড়ছে। বিশেষ করে ঢাকা শহরের বাতাসে ধুলি ও সিসার পরিমাণ দিন দিন বেড়ে চলেছে। এই রকম চলতে থাকলে আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম হয়ে যাবে রুগ্ন ও কার্যক্ষমতাবিহীন। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত অন্তত আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের কথা চিন্তা করে জলবায়ু প্রকল্পের গৃহিত প্রকল্পগুলো সুষ্ঠভাবে বাস্তবায়ন করা।

ঢাকা, ০১-১২-২০১৪ ইং 

মঙ্গলবার, ২৫ নভেম্বর, ২০১৪

তরুণ সমাজের ভাবনা ও রাজনীতি


রাজনীতিতে আধুনিকায়ন শব্দটা এখনো অধরা। অনেক রাজনীতিবিদই হয়তো বলতে পারেন রাজনীতিতে আবার আধুনিকায়ন বিষয়টা কি? আমরা 'বিশ্বায়ন' শব্দটার দিকে একটু তাকাতে পারি। বর্তমান সময়ে বিভিন্ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের টার্গেট সহ বিশ্বায়নের মূলমন্ত্র হচ্ছে আধুনিকায়ন। প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের সাথে সাথে পরিবর্তনশীল একটা সমাজ ব্যাবস্থা বা উন্নত একটা ধারার আবহ সৃষ্টি করাটাই মূলত বিশ্বায়ন। ঠিক তেমনি রাজনীতিতে আধুনিকায়ন এখন একটা সময়ের দাবি। আমাদের দেশের রাজনৈতিক দলের বিশেষ করে বুর্জুয়া রাজনৈতিক দলের ধারকরা মূলত প্রবীন। অপরদিকে বাংলাদেশের বিশাল একটা জনগোষ্ঠী হচ্ছে তরুণ সমাজ। স্বভাবতই চিন্তা-চেতনায় ও মননে প্রবীন ও তরুণদের মাঝে সবসময় একটা বিস্তর ফাঁরাক থেকে যায়। এটা যে কোন প্রজন্মের ক্ষেত্রে ঘটে। যেমন আমরা যারা এখন তরুণ কিন্তু পরবর্তী প্রজন্মের সাথে স্বভাবতই একটা ফাঁরাক তৈরী হয়ে যাবে কারণ পরবর্তী প্রজন্ম হবে আমাদের থেকে আরো আধুনিক। প্রজন্মের মাঝে এই পার্থক্যটা আমাদের প্রবীণ রাজনীতিবিদরা উপলব্ধি করলেও সেটা জনসম্মুখে স্বীকার করেনা কারণ এতে করে তাদের মাঝে সমন্বয়হীনতার একটা দূর্বলতা প্রকাশ পায়। বর্তমান সময়ে তরুণদের রাজনীতির প্রতি অনীহার একটা অন্যতম কারণ প্রবীন রাজনীতিবিদদের সাথে তরুণদের কোন সমন্বয় নেই বললেই চলে। 

বাজার ব্যাবস্থার দিকে তাকালে দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন ধরণের কোম্পানিগুলো এখন তরুনদের টার্গেট করছে। এর পিছনে মূলত দুটো কারণ আছে, প্রথমত, জনগোষ্ঠীর বিশাল একটা অংশ তরুন। দ্বিতীয়ত, সামাজিক গণমাধ্যম ও মোবাইল কমিনিনিউকেশনে তরুণরা বেশি যুক্ত থাকায় এই মাধ্যমগুলোর মাধ্যমে যে কোন পণ্যের প্রচারণা খুব দ্রুত হচ্ছে। 

এবার শিরোনাম প্রসঙ্গে আসি, প্রথমেই বলেছি তরুণদের রাজনীতির প্রতি অনীহার একটা অন্যতম কারণ প্রবীন রাজনীতিবিদদের সাথে সমন্বয়হীনতা। প্রশ্ন আসতে পারে সমন্বয়টা আসবে কিভাবে? প্রথমেই বিবেচনায় নিয়ে আসতে হবে তরুণদের ভাবনাটা কি? প্রযুক্তির এই যুগে তরুণদের চাওয়া হচ্ছে সব কিছুর যোগাযোগটা যেন প্রযুক্তির মাধ্যমে হয়। আমাদের রাজনৈতিক দলগুলোর এজেন্ডা হতে পারে প্রযুক্তি নির্ভর। কিংবা কর্মসূচি গুলোর মধ্যে থাকতে হবে আধুনিকতার ছোঁয়া। রাজনীতিবিদ কিংবা রাজনৈতিক দলগুলোর চিন্তা ও মননে আধুনিকতার ছোঁয়া থাকলেই কেবল তরুণরা রাজনীতির প্রতি আকৃষ্ট হবে। 

বর্তমান প্রেক্ষাপটে আমাদের দেশের রাজনৈতিক দলগুলো কতটা প্রযুক্তি নির্ভর সেই প্রসঙ্গে আসলে দেখা যাবে শুধুমাত্র বিএনপি, আওয়ামীলীগসহ হাতে গোনা কয়েকটি দল অফিসিয়াল ওয়েবসাইট খুলে দিয়েই কেবল তাদের দায়িত্ব শেষ করেছে। নিয়মিত হালনাগাদের বিষয়টি এখনো উপেক্ষিত। সামাজিক মাধ্যমগুলোতেও তাদের উপস্থিতি নগণ্য। কিংবা হলেও তরুণদের নিয়ে কাজ করার নেই কোন বিশেষ স্বদিচ্ছা বা দিক নির্দেশনা। গত নির্বাচনী ইশতেহারগুলোতে আওয়ামীলীগ তরুণদের জন্য ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মানের কথা বললেও এর বাস্তাবায়ন নিয়ে নেই কোন বিশেষ অগ্রগতি। অপরদিকে বিএনপি তরুণদের নিয়ে কাজ করার কথা বললেও কিভাবে বা কি ধরণের কাজে সম্পৃক্ত করে তরুণদের সাথে সমন্বয় করা হবে এর স্বচ্ছ কোন দিক নির্দেশনা পাওয়া যাচ্ছে না। 

তবে আশার কথা হাতে গোনা যে সব তরুণ এখন রাজনীতিতে সক্রিয় হচ্ছেন তারা স্ব-ইচ্ছায় নিজ নিজ পছন্দনীয় আদর্শিক দলের হয়ে প্রযুক্তিকে সাথে নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন যদিও প্রবীণ রাজনীতিবিদদের উৎসাহ এখনো উপেক্ষিত।   

রাজনীতিতে এভাবে তরুণদের অনীহা চলতে থাকলে পরবর্তী নেতৃত্ব স্বভাবতই একটা সংকটের মধ্যে পরবে। মেধাশুণ্য বা তরুণ নেতৃত্ব বাদে দেশে সার্বিক উন্নয়ন কখনো সম্ভব নয়। এতে করে সব কিছুই নষ্টদের দখলে চলে যাবে। কূটনৈতিক সম্পর্কসহ দেশের প্রয়োজনে বড় বড় সিদ্ধান্তগুলো মুখ থুবড়ে পরবে। তাই দল ও দেশের প্রয়োজনে প্রতিটি দলের প্রবীন রাজনীতিবিদদের উচিৎ দলের দিক নির্দেশনায় আধুনিকায়নের মাধ্যমে দেশের তরুণ সমাজকে সম্পৃক্ত করা। 

(ঢাকা, ২৫-১১-২০১৪)

মঙ্গলবার, ৮ অক্টোবর, ২০১৩

এয়ারটেল ও আমাদের সামাজিক মূল্যবোধ

স্টুপিডিটির একটা লিমিট আছে! বাংলাদেশে এয়ারটেল ব্যাবসা শুরু করার পর থেকেই আমাদের দেশীয় সংস্কৃতির প্রতিকূলে গিয়ে এরা এমন এক ধরনের বিজনেস পলিসি বেছে নিয়েছে যাতে করে আমাদের তরুণ সমাজ অবক্ষয়ের কিনারে গিয়ে পৌছুক সেটাই চায় তারা। এর আগে 'বন্ধু ছাড়া লাইফ ইম্পোসিবল' বিজ্ঞাপন দিয়েও তারা একই ধরনের সামাজিক অবক্ষয়মূলক কাজ করেছে। ব্যাবসার সাথে সাথে তারা আমাদের তরুণ সমাজের মগজে এমন কিছু পুশ ইন করছে যাতে করে অচিরেই আমাদের সামাজিক মূল্যবোধ অবক্ষয়ের শেষ প্রান্তে পৌছাবে। তাদের মনে রাখা উচিৎ এটা তাদের ভারত না যে তাদের মত এখানেও তারা পতিতার কারখানা বানাবে! সম্প্রতি ইউটিউব এবং ফেসবুকসহ বেশ কয়েকটি সাইটে এয়ারটেল থ্রি-জির নতুন একটি বিজ্ঞাপন দেখা যাচ্ছে। যেখানে দেখানো হচ্ছে বন্ধু এবং গার্লফ্রেন্ডকে নিয়ে অনৈতিক কার্যকলাপ করার সময়েও ফোনে মা-বাবাকে মিথ্যা বলে চাপাবাজি করছে এক ছেলে! ভারতীয় এজেন্ট এয়ারটেল আমাদের সামাজিক মূল্যবোধকে কোথায় নিয়ে যেতে চায় তা কি একবার ভেবে দেখেছেন? মা-বাবার সাথে চাপাবাজি করতে শেখাচ্ছে এরা! কি ধরনের মূল্যবোধ অবক্ষয়ের টিউশনি করাচ্ছে এরা ভেবে দেখেছেন? ভিডিও বিজ্ঞাপনটির শুরুতেই নিচে লেখা আছে “Brazzers”, তাহলে এরা কি সরাসরি আমাদের তরুণ সমাজকে “Brazzers” বানানোর মিশনে নেমেছে? এদেরকে প্রতিহত না করলে এরা আমাদের সংস্কৃতি এবং সামাজিক মূল্যবোধ দুটোকেই ভারতের মত নোংরামির পর্যায়ে নিয়ে চলে যাবে!
 (০৮-১০-২০১৩)

সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৩

আব্বু ও আমি

জানিনা পৃথিবীতে অন্যান্যদের বাবারা কেমন হয়ে থাকে। হয়ত বা আলাদা অথবা ভিন্ন। কিন্তু আমার বাবা আমার কাছে একেবারেই অনন্য! ভালোবাসার শেষ বিন্দু পর্যন্তও আব্বুর ভালোবাসাটা আমার জন্য ভিন্ন রকম।

ফ্রান্স-জিদান এবং আর্জেন্টিনা-ম্যারাডোনা, আব্বুর সাথে খেলার মাঠে এই অমিল ছাড়া জীবনের মাঠে কোনদিন কোন মতপার্থক্য সৃষ্টি হয়নি। প্রিয় ফুটবলার জিদানের কারণেই আব্বু বরাবরই ফুটবলে ফ্রান্সকে সাপোর্ট করে আর ঈশ্বরের হাতে গোলের কারণে আব্বুর মতে ম্যারাডোনা আদর্শ্চ্যুত হয়েছেন বলেই আর্জেন্টিনার প্রতি এতো অভক্তি। আর আমার সাপোর্ট বরাবরই আর্জেন্টিনা। জীবনে কোন ক্ষেত্রেই আব্বু আমার কোন আশা অপূর্ণ রাখেননি, চেষ্টার সবটুকু দিয়েই আমার আজগুবি সব বায়নাও পূরণ করেছেন সবসময় এবং এখনো করছেন। সন্ধ্যে বেলা আব্বুর কোলে শুয়ে রামায়ান উপাখ্যানের গান শুনে ঘুমানো, একসাথে দুই-তিনটা ক্রিকেট ব্যাট-বলের বায়না সহ প্রকাশ করে শেষ করতে না পারা শত ভালোবাসার স্মৃতিতেও আমার সবচেয়ে প্রিয় ব্যাক্তি আমার বাবা। শত দূরত্বেও ভালোবাসার চূড়ায় অস্তিত্বের সংজ্ঞা শুধুই তুমি বাবা। এই শত দূরত্বও তোমার প্রতি অসীম ভালোবাসায় কোন ঢাল নয়। আব্বু তোমাকে অনেক অনেক ভালোবাসি। 

(১৬-০৯-১৩)

বুধবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৩

সীমান্তে ড্রোন ও আমাদের সার্বভৌমত্ব

না আফগানিস্থান বা ইরাক নয়, এবার ড্রোন (মানুষ্যবিহীন বিমান) চলবে বাংলাদেশ সীমান্তে। ফেলানী হত্যার রক্তের ক্ষতের দাগ এখনো শুকোয়নি তার আগেই সীমান্তে ড্রোন মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত। বন্ধুত্বের পরীক্ষায় বাংলাদেশের সাথে তারা ন্যুন্যতমভাবে পাস হতে পারেনি। সীমান্তে একের পর তারা করে চলেছে নিরীহ মানুষ হত্যা। এখন পর্যন্ত আওয়ামী সরকার ভারতকে এর যথাযথ প্রতিউত্তর দিতে পারেনি। সীমান্তে কড়া নজরদারির জন্য ইতোমধ্যেই যুদ্ধক্ষেত্রের মতো রাডার, দূরপাল্লার পর্যবেক্ষণ, লাইটভিশনসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে ভারত। এবং যথেচ্ছাই বাংলাদেশের সামরিক- বেসামরিক স্থাপনার উপর নজরদারি করে চলেছে যা আমাদের সার্বভৌমত্বের জন্য চরম হুমকি। এরপরও ড্রোনের কী প্রয়োজন, তা বোধগম্য নয়। সীমান্তে ড্রোন মোতায়েন হলে তাদের নজরদারি আমাদের ভূ-খন্ডের আরো ভিতরে ঘটবে। বলাই বাহুল্য সীমান্তবর্তী বাংলাদেশের সেনা ক্যাম্পগুলোতে তারা হারহামেশাই নজরদারি করবে। এরপর তথাকথিত জঙ্গি সন্দেহে তারা হারহামেশাই বাংলাদেশের অভ্যন্তরে মাঝে মাঝেই ড্রোন হামলা চালাবে এটা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা। আমাদের সার্বভৌমত্ব তথাকথিত বন্ধুপ্রতীম রাষ্ট্র ভারতের কাছে কখনই নিরাপদ নয়। এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত আওয়ামী সরকারের কোন মন্তব্য শোনা যাচ্ছে না। বাংলাদেশ সরকারের উচিৎ দ্রুত এর প্রতিবাদ করা। না হলে আমাদের মা ও মাটির ইজ্জত ভারতের কাছে আর অক্ষত থাকবেনা!

(১১-০৯-২০১৩)